৮ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

৩১ জেলার প্রায় অর্ধকোটি মানুষের নেই ঈদের আমেজ

অনলাইন ডেস্ক :সারা দেশে উদযাপন হতে যাচ্ছে কোরবানির ঈদ, কিন্তু ৩১ জেলার প্রায় অর্ধকোটি মানুষের মনে নেই ঈদের আমেজ। করোনা দুর্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় পানিবন্দি ও আশ্রয়হীন এসব পরিবারের দিন কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে।

সামান্য শুকনো খাবার ছাড়া কোনো সহায়তা নেই বলেও অভিযোগ দুর্গতদের। এদিকে, তবে বন্যাপূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, উজানে ভারি বৃষ্টি কমেছে। তাই ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা ও পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। মধ্য আগস্টে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা সাহেরা বানুর ঠিকানা এখন বেড়িবাঁধ। সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের এই নারীর সঙ্গে আছে প্রতিবন্ধী এক সন্তান। জুলাইয়ে দ্বিতীয় দফা বন্যায়, ভেসে গেছে তার ঘর। টিনের চালাটি কোনো মতে রক্ষা করেছেন। দিন কাটছে অর্ধাহারে। ভক্সপপ

জামালপুরের কুলকান্দি ইউনিয়নের চিত্রটি বেশ করুণ। তিন দফা বন্যায় বসতভিটা হারিয়ে বেড়কুষা গুচ্ছ গ্রামের আড়াইশ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে যমুনার তীর রক্ষা বাঁধে। গত একমাসে দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ ও সরিষাবাড়ি উপজেলার যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। কয়েক লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বেড়িবাঁধ, উঁচু সড়ক, ব্রিজ-কালভার্টে। দুর্গত এসব মানুষের জীবনে নেই ঈদের আমেজ।

তবে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, ৩১টি জেলায় প্রায় অর্ধকোটি মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। তবে এবারের বন্যা ৮৮ ও ৯৮ সালের মতো তীব্র হলেও বেড়ি বাঁধ ভেঙেছে কম। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৬ হাজার কিলোমিটার বাঁধের মাত্র আড়াইশ কিলোমিটার ভেঙেছে। তাই ক্ষয়ক্ষতি কম।

পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে বন্যার উন্নতি হবে। তবে পানি নামতে সময় লাগতে পারে মধ্য আগস্ট পর্যন্ত।

ফেসবুক