২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মানিলন্ডারিংয়ের আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক: করোনার প্রাদুর্ভাবে বিশ্বব্যাপী স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ সময়ে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে অর্থের লেনদেন স্বাভাবিক ব্যাংকিংয়ের চেয়ে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এতে প্রচলিত আইনকানুন মানা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আবার অনলাইন ব্যাংকিংয়ে ব্যাংকগুলোর তদারকি কার্যক্রম কম হয়। এ দুর্বলতার আড়ালে অর্থ ব্যয়ে মানি লন্ডারিং, অর্থ পাচার, জালিয়াতিসহ বহুমুখী অপরাধপ্রবণতা বাড়তে পারে।

সন্ত্রাসী কাজে কেউ যেন অর্থের ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিকভাবে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএফ) প্রতিবেদনে এ আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি সম্প্রতি এফএটিএফের সদস্যভুক্তদেশগুলোর মতো বাংলাদেশেরও একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, করোনার সময়ে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ফলে ডিজিটাল লেনদেন বেড়ে যাবে।

এ ক্ষেত্রে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি নিশ্চিত হতে হবে। অনুদানের অর্থ ছাড় করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। পাশাপাশি করোনা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এক নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। গ্রাহককে না দেখেই শুধু অনলাইন বার্তার মাধ্যমে লেনদেন বেড়ে যাচ্ছে। গরিব মানুষকে সহায়তা করতে অর্থ, ওষুধসহ নানা উপকরণ দেয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় যেমন নকল বা ভেজাল ওষুধের সরবরাহ বাড়তে পারে; তেমনি করোনা প্রতিরোধী উপকরণ আমদানি করতে টাকা পাচারের মতো মানি লন্ডারিং অপরাধও ঘটতে পারে।

জানা গেছে, করোনার প্রাদুর্ভাবে স্বাভাবিক ব্যাংকিং ব্যাহত হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গ্রাহক অর্থের লেনদেন অনলাইনে করছে। অনলাইন লেনদেনে ব্যাংকগুলোতে তেমন তদারকি করা হয় না; যেমনটা করা হয় স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে। বিশেষ করে লেনদেনে অনলাইন নির্ভরতায় ডিজিটাল জালিয়াতি হওয়ার আশঙ্কা করছে এফএটিএফ।

ইতোমধ্যে অনলাইন ব্যাংকিংয়ে আন্তর্জাতিক জালিয়াতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও সতর্ক করা হয়েছিল ব্যাংকগুলোকে। সাইবার হ্যাকিং থেকে নিরাপদ থাকার জন্য ব্যাংকগুলোও অনলাইন কার্যক্রমে সতর্ক হয়। বিশেষ করে এটিএম বুথগুলো সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়। সাইবার হ্যাকিংয়ে গ্রাহকের অর্থ যাতে চুরি না হয়, সেজন্য ব্যাংকগুলোর আইটি খাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়।

এটিএম বুথে দৈনিক লেনদেন ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা বন্ধ করে দেয়া হয়। কোনো ব্যাংক সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা, কোনো কোনো ব্যাংক রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা এটিএম বুথে লেনদেন বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি এক ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে অন্য ব্যাংকের এটিএম কার্ডে লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়। রাশ টেনে ধরা হয় আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থের লেনদেনের।

এফএটিএফ প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার কারণে বাণিজ্য ব্যবস্থায় অনেক নতুন ধরনের উপকরণ যুক্ত হয়েছে। যেগুলো সম্পর্কে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোরও ধারণা নেই। এসব বিষয়ে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হবে। এ সময়ে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এফএটিএফের নীতিমালা অনুসরণ করা হলে অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকি অনেকটা কমে যাবে।

কারণ এ ধরনের মহামারীকালে অপরাধী চক্র তৎপর হয়ে ওঠে। তারা নকল ও ভেজাল ওষুধ বা উপকরণ বাজারে ছড়িয়ে দেয়। এসব উপকরণ আমদানি বা রফতানির নামে অর্থ পাচার করে। ভাইরাসজনিত নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে আর্থিক জালিয়াতি বা শোষণ করে। একই সাথে আর্থিক লেনদেনে সাইবার অপরাধী চক্রও ওঁৎ পেতে থাকে। ভুয়া দাতব্য প্রতিষ্ঠানের নামে তহবিল সংগ্রহ করে অর্থ আত্মসাৎ করার নজিরও রয়েছে।

প্রতিবেদনে এসব অপরাধ প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, প্রয়োজনে আন্তঃদেশীয় বা বহুপক্ষীয় যোগাযোগ বাড়াতে হবে। জালিয়াতদের ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ তৈরি করে সেগুলো আন্তর্জাতিকভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। এতে একই প্রতিষ্ঠানের বহুমুখী অপরাধপ্রবণতা ঠেকানো সম্ভব হবে।

প্রতিবেদনে এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে আর্থিক গোয়েন্দা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দক্ষতার সাথে মাঠে নামাতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এফএটিএফের সতর্কবার্তা তারা পেয়েছেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী বাংলাদেশের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাও কাজ শুরু করেছে। এতে সহজেই যেকোনো ধরনের সঙ্কট কাটানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print
ফেসবুক