২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ২ শতাধিক বোমা বিস্ফোরণ, আহত ২৫

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের জাজিরায় উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই শতাধিক বোমা বিস্ফোরণ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। বোমার আঘাতে অনন্ত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার সকালে এ সংঘর্ষের ঘটনায় ১১৭ জনকে আসামি করে জাজিরা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আহতদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জাজিরা থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন জানান, সকালে উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের বুধাইরহাট এলাকার চেরাগ আলী বেপারীকান্দি গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল কুদ্দুছ বেপারীর সমর্থক কামাল সরদারের সঙ্গে জাজিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবু তাহের সরদার সমর্থক জলিল মাদবরের লোকজনের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়।

ওই সময় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ২ শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বুধাইরহাট বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে রোববার রাতে বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের কাছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা আবু তাহেরের সমর্থক আবদুল জলিল মাদবরের লোকজন নাছির বেপারী, সেলিম বেপারী ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস বেপারীর সমর্থক শওকত হাওলাদারের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধে। উভয় গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

এ সময় অন্তত ১৫ জন আহত হন। হামলাকারীরা কামাল বেপারী, আমজাত হোসেন সরদার, জলিল ফকিরের ঘরসহ ব্শে কয়েকটি ঘর ভাংচুর করে।

এ ঘটনার পর রোববার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম মিজানুর রহমানের (নড়িয়া সার্কেল) নেতৃত্বে জাজিরার বিলাশপুর পুলিশ ও ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে অবিস্ফোরিত ২১টি তাজা বোমা উদ্ধারসহ হারুন খলিফা, কাদির মাদবরকে গ্রেফতার করেছে।

এ ঘটনায় জাজিরা থানার এসআই মফিজুর রহমান বাদী হয়ে ১১৭ জনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম মিজানুর রহমান জানিয়েছেন।

স্থানীয় লাল মিয়া বেপারী, হাসেম সরদার ও কামাল বেপারী, আহম্মদ সরদার ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৪-৫ বছরে বিলাশপুর ইউনিয়নে ২৫-৩০ বার বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনটি খুনসহ ২ শতাধিক লোক মারাত্মক আহত হয়েছেন।

বিলাশপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল কুদ্দুস বেপারী বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান আবু তাহের সরদারের প্রায় শতাধিক লোক আমার বাড়ি ও আমার সমর্থকদের ওপর শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ১০টি বাড়ি ভাংচুর করে। বাধা দিলে আমার ১০ জন সমর্থককে বোমা মেরে আহত করে।

বিলাশপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবু তাহের সরদার বলেন, স্থানীয় জলিল মাদবরের সমর্থক ও সাবেক চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে ঝগড়া হওয়ার কথা শুনেছি। আমি ঢাকায় আছি। এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না।

এ ব্যাপারে জাজিরা থানার ওসি আজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, বিলাশপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আবু তাহের সরদার ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুছ বেপারীর সমর্থকদের মধ্যে রোববার ও সোমবার সংঘর্ষ হয়েছে। এত বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি। এখন ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) এসএম মিজানুর রহমান বলেন, জাজিরার বিলাশপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আবু তাহের সরদার ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুছ বেপারীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ৭০-৮০টি হাতবোমা ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২১টি তাজা বোমা উদ্ধারসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print
ফেসবুক