২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

হেফাজত সরকার বিরোধী বা সরকার দলীয় সংগঠন নয়

যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের (সা:) শানে কটুক্তি করে তাদের কবর রচনা করতেই হেফাজতের জন্ম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির নব নির্বাচিত আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

তিনি বলেছেন, যারা ইসলামের শত্রু, রাসুলের দুশমন; নাস্তিক-মুরতাদদের কবর রচনার জন্য হেফাজতে ইসলামের জন্ম। হেফাজত সরকার বিরোধী সংগঠন নয়, আবার সরকার দলীয় সংগঠনও নয়।

বিশ্বের ২০০ কোটি মুসলমানের ভালোবাসার প্রতীক রাসুলকে (সা.) নিয়ে ফ্রান্সের সরকার যেভাবে কটুক্তি করেছে তাতে মুসলমানদের অন্তর কেঁদে উঠেছে, আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

শনিবার বিকালে ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় মদদে মহানবীর (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম সিলেটের উদ্যোগে নগরীর ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হেফাজতে ইসলামকে সরকারের বন্ধু উল্লেখ করে বাবুনগরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলাম আপনার শত্রু না। আমরা আপনার বন্ধু। কিন্তু আপনার কাঁধের ওপর ঘাপটি মেরে বসে থাকা নাস্তিক মুরতাদরাই আপনার শত্রু।

আমি মনে করি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও কাদিয়ানীদেরকে মুসলিম বলে মনে করেন না। শুধু ব্যক্তিগতভাবে কাদিয়ানীদেরকে কাফের মনে করলে হবে না। রাষ্ট্রীয়ভাবেও কাদিয়ানীদেরকে কাফের ঘোষণা করতে হবে।

৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে কাদিয়ানীদেরকে কাফের ঘোষনায় কোন সমস্যা থাকার কথা নয়। কাদিয়ানিদের সাংবিধানিক ভাবে কাফের ঘোষণা না করার কারণে তারা মক্কা-মদিনা যেতে পারে। এতে মক্কা -মদিনার পবিত্রতা নষ্ট হয়। তাই আমি ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে বলেছি কাদিয়ানিদের সাংবিধানিকভাবে কাফের ঘোষণা করতে হবে।

হেফাজত আমীর বলেন, হিন্দুরাও কাফের। তাহলে এখন আপনাদের প্রশ্ন আসতে পারে হিন্দুদের কাফের ঘোষণার কথা বলছি না কেন। আমরা হিন্দুদের কাফের ঘোষণার দাবি করছি না কারণ তারা মুসলমানদের বেশ ধারণ করে না। কিন্তু কাদিয়ানিরা মুসলমানদের বেশ ধারণ করে। তাই তারা ইসলামের সবচেয়ে বড় শত্রু।

তাই আমাদের দাবি হল কাদিয়ানিদের কাফের ঘোষণা করা হোক। এরপর তারা এ দেশে সংখ্যালঘু হিসেবেই থাকুক। আমাদের কোন অসুবিধা নেই। হিন্দুরাও থাকছে। আমাদের কোন অসুবিধা হচ্ছে না।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা জিয়া উদ্দীন সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, নায়েবে আমীর প্রফেসর ড. আহমদ আবদুল কাদের, উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতী রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী, উবায়দুল্লাহ ফারুক, আল্লামা নূরুল ইসলাম খান সুনামগঞ্জী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মাওলানা আবদুর রকীব প্রমুখ।

এদিকে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেটের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন আল্লামা মুহিবুল হক গাছবাড়ি হুজুর।

‘গাছবাড়ি হুজুর’ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নতুন কমিটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এবং সিলেট জেলা শাখার সভাপতি।

সমাবেশের আগের রাতে শুক্রবার এক ভিডিওবার্তায় আল্লামা মুহিবুল হক গাছবাড়ি হুজুর বলেন, আমি বিগত ৯ নভেম্বর এদারা ভবনে ২১ নভেম্বর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেটের ব্যানারে ফ্রান্সে মহানবী (সা.) এর অবমাননার প্রতিবাদে সমাবেশের ডাক দিয়েছিলাম। কিন্তু আমি লক্ষ করছি এ সমাবেশ বর্তমানে হেফাজতের নাম ব্যবহার ছাড়া আর কিছু নেই।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সম্পুর্ণ অনিমতান্ত্রিকভাবে আমাকে না জানিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। তাই আমি শনিবারে সমাবেশে অংশগ্রহণ করব না।

শনিবারের সমাবেশে অংশ না নিলেও তিনি হেফাজতের সঙ্গে থেকে হেফাজতের লক্ষ ও উদ্যেশ্য সমুন্নত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print
ফেসবুক