২৬শে মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নিহত ৪ হেফাজতকর্মীর পরিচয় মিলেছে, হাসপাতালে ছুটলেন বাবুনগরী

জনপত্র ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে করা বিক্ষোভ মিছিল থেকে হাটহাজারী থানায় হামলা করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলৈই নিহত হন চারজন।

এদের মধ্যে তিনজন হাটহাজারীর আল জামাতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং একজন পথচারী। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।

নিহতরা হলেন হাটহাজারীর আল জামাতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসার মাস্টার্সের (দাওরায়ে হাদিস) শিক্ষার্থী কাজী মিরাজুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম ও জামিল এবং পথচারী মো. মিজান। নিহত মিজান স্থানীয় একটি দর্জি দোকানে কাজ করতেন। এ ছাড়া চারজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে পূর্বঘোষণা ছাড়া দুপুরে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে মিছিলটি হাটহাজারী থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় নেতাকর্মীরা থানায় হামলা চালায়।

এ সময় পুলিশ গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে হেফাজতের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে অবস্থান নেয়। এ ঘটনায় খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো হাটহাজারী উপজেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় হেফাজতের নেতাকর্মীরা হাটহাজারীর আল জামাতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসার সামনের সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। হেফাজতকর্মী ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় চলতে থাকে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এ ঘটনা চলাকালে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজী জানান, বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই হেফাজত নেতাকর্মীদের ওপর ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশের সঙ্গে হেফাজত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের মাদরাসার তিনজন এবং একজন পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ছাড়া আরো বেশ কজন আহত হন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, হাটহাজারী থেকে গুলিবিদ্ধ চারজনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। মরদেহগুলো হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার বিকেল ৫টায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিহত মাদরাসা শিক্ষার্থীদের দেখতে আসেন। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়েছে।

এ সময় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান বলেন, নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে হাটহাজারীর আল জামাতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসার শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং পরে গুলি ছোড়ে। এটা হেফাজতে ইসলামের কোনো কর্মসূচি না।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print
ফেসবুক