২৮শে মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

গরুর মাংসের দোকানে ভিড়

জনপত্র ডেস্ক: শবেবরাতের আরো দুই দিন বাকি। এরই মধ্যে ভিড় লেগেছে মাংসের দোকানে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে মাংসের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে কমপক্ষে ১০ টাকা বেশি রাখছেন বিক্রেতারা। তবে মূল্যতালিকায় আগের দামই লেখা রয়েছে। শবেবরাতের চাহিদা বাড়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার পাড়া-মহল্লাগুলোতেও মাংস বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

গতকাল শনিবার বিভিন্ন অলিগলিতে গরু জবাই করতে দেখা গেছে, আজও করা হবে। ক্রেতারা বলছেন, বিক্রেতারা মানুষের হুজুগের সুযোগ নিচ্ছেন। মাংসের দাম বেশি রাখছেন। আর বিক্রেতারা বলছেন, শবেবরাত এলে মানুষের মাংস কেনার হুজুগ বেড়ে যায়। এতে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা মাংসের ব্যবসায় নামেন, যার প্রভাব পড়ে গরুর হাটে। গরুর দাম বেড়ে যাওয়ায় কেজিপ্রতি মাংসের দামও বাড়ে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অলিগলি ও বাজারগুলোতে জবাই করার জন্য গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। রাজধানীর মানিকনগরের বিক্রেতা কালাম মিয়া বলেন, ‘গরু কিনেছি ৯৮ হাজার টাকায়, সঙ্গে খরচ যোগ হবে। কাল রাতে জবাই করব। দুই কেজি করে বণ্টন করছি। এখনো সব বণ্টন বিক্রি হয়নি। প্রতি কেজি ৬০০ টাকা।’

গতকাল রাজধানীর রামপুরা, জিগাতলা, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি দোকানেই মাংসের ক্রেতাদের ভিড় রয়েছে। বেশির ভাগ ক্রেতাই কিনছেন দুই কেজির ওপরে। কেউ কেউ ১০ কেজিও কিনছেন। রামপুরার খলিল গোস্তবিতানে গিয়ে দেখা যায়, ৮-১০ জনের ভিড় লেগেছে। মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা কেজিতে। এই দোকানে আগে ৫৫০ থেকে ৫৬০ টাকায় মাংস পাওয়া যেত। জানতে চাইলে আহাদ নামের এক ক্রেতা বলেন, সরকার মাংসের দাম বেঁধে দেয়নি। সামনে শবেবরাত, তার পর রোজা। সব মিলিয়ে মাংসের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকে বলা মুশকিল। তাই একটু বেশি করে কিনে রাখছি।

অন্য বাজারগুলোতেও একই অবস্থা। জিগাতলায় গিয়ে দেখা যায়, মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা কেজি। জানতে চাইলে আনোয়ার গোস্ত বিতানের মালিক কাজী আনোয়ার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আগের দামেই বিক্রি করছি। তবে কত দিন পারব বুঝতে পারছি না। প্রতিবছরই শবেবরাতের আগে মাংস বিক্রি বাড়ে। পাড়া-মহল্লায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গরু জবাই করে নিজেদের মতো মাংস বিক্রি করে। আগে যাঁরা পাঁচ কেজি কিনতেন, এখন তাঁরা ১০ কেজি কিনছেন। ফলে হাটে গরুপ্রতি দুই-তিন হাজার টাকা দামও বেড়েছে।’

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনন্দিন মূল্য তালিকায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৫৫০-৬০০ টাকা কেজি। গতকাল গরুর মাংসের দাম ছিল ৫৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি। প্রতিবছরই সিটি করপোরেশন থেকে রোজার আগে গরুর মাংসের দাম বেঁধে দিলেও গত বছর করোনার কারণে দেওয়া হয়নি। এ বছর এখন পর্যন্ত দাম বেঁধে দেওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

গরুর মাংসের সঙ্গে বেড়েছে খাসির মাংসের দামও। টিসিবির হিসাবে মাসখানেক আগেও খাসির মাংস পাওয়া যেত ৭৫০-৮৫০ টাকা কেজি। এখন তা ৮০০-৯০০ টাকা কেজি। মুরগির মাংসের দাম আগে থেকেই বাড়তি ছিল। এর সঙ্গে শবেবরাতের বাড়তি চাহিদা যোগ হয়ে বেড়েছে আরেকটু। ব্রয়লার মুরগির কেজি চলতি সপ্তাহে আরো পাঁচ টাকা বেড়ে ১৫০-১৬৫ টাকা কেজিতে উঠেছে, যা গত বছরের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি। সোনালি ও পাকিস্তানি কক নামে বিক্রি হওয়া মুরগির কেজি এখন ৩৫০-৩৭০ টাকা কেজি। কয়েক সপ্তাহ আগেও ৩০০-৩২০ টাকায় পাওয়া যেত।

মাংস ছাড়াও চলতি সপ্তাহে আরো বেড়েছে ভোজ্য তেল সয়াবিন ও পাম তেলের দাম। খোলা সয়াবিন তেল লিটারে এক টাকা বেড়ে ১১০ থেকে ১২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল গেল সপ্তাহে এক লিটার পাওয়া যেত ১৩০-১৪০ টাকায়, এখন ১৩৬-১৪০ টাকা রাখছেন বিক্রেতারা। খোলা পাম লুজ এক টাকা বেড়ে প্রতিলিটার ১০৮-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চাল, ডাল, আদা, রসুনের দাম আগের মতোই রয়েছে।

চলতি সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি আরো পাঁচ টাকা কমেছে। বাজারে এখন ৩৫-৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। কোথাও কোথাও ৩০ টাকায়ও মিলছে। টিসিবির হিসাবে গত বছর এ সময় পেঁয়াজের কেজি ছিল ৪০-৫০ টাকা। সেই হিসাবে ২৭ শতাংশ দাম কম রয়েছে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print
ফেসবুক