২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গ্রন্থাগারিকরা পেলেন শিক্ষকের মর্যাদা

জনপত্র ডেস্ক: দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ জারি করা হয়েছে। গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এই নীতিমালা জারি করা হয়। এই নীতিমালায় স্কুল পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি সহজ করা হলেও কলেজ পর্যায়ে কঠিন করা হয়েছে। এছাড়া উচ্চমাধ্যমিকে জ্যেষ্ঠ প্রভাষকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিকদের দেওয়া হয়েছে শিক্ষকের মর্যাদা।

এছাড়া নীতিমালায় পূর্ণাঙ্গ উত্সব ভাতার সুযোগ সৃষ্টি এবং আরেকটি নীতিমালা প্রণয়ন সাপেক্ষে বদলির সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের অভিজ্ঞতা তিন বছর বাড়িয়ে ১৫ বছর করা হয়েছে।

বেতন-ভাতার ব্যাপারে নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন ও বোনাসের নির্ধারিত অংশ, উত্সব ভাতার নির্ধারিত অংশ, বৈশাখী ভাতার নির্ধারিত অংশ সরকারের জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অথবা সরকারের সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গে অথবা সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে মিল রেখে করতে হবে।

শিক্ষক-কর্মচারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের ব্যাপারে ১২.২ উপধারায় বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, প্রদর্শক ও প্রভাষকদের কোনো প্রতিষ্ঠানে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে সমপদে ও সমস্কেলে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের জন্য মন্ত্রণালয় নীতিমালা প্রণয়ন করে জনস্বার্থে আদেশ জারি করতে পারবে।

জানা যায়, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের সর্বশেষ বেতন স্কেল অনুযায়ী মূল বেতন পেয়ে থাকেন। তবে শিক্ষকরা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ ও কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ উত্সব বোনাস পান। তারা শতভাগ বোনাস পেতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছেন। এছাড়াও তাদের কোনো বদলির সুযোগ নেই। তবে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী শতভাগ উত্সব বোনাস ও বদলির সুযোগ সৃষ্টি হলো।

জানা যায়, ২০১৮ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি পেতে নিম্ন মাধ্যমিকে শহরে ২০০ ও মফস্সলে ১৫০ জন শিক্ষার্থী, মাধ্যমিকে শহরে ৩০০ ও মফস্সলে ২০০, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহরে ৪৫০ ও মফস্সলে ৩২০, উচ্চমাধ্যমিক কলেজে শহরে ২০০ ও মফস্সলে ১৫০ এবং ডিগ্রি কলেজে শহরে ২৫০ ও মফস্সলে ২০০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। আর পাশের হার হতে হবে ৭০ শতাংশ।

তবে ২০২১ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি পেতে নিম্ন মাধ্যমিকে শহরে ১২০ ও মফস্সলে ৯০, মাধ্যমিকে শহরে ২০০ ও মফস্সলে ১৫০, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহরে ৪২০ ও মফস্সলে ৩২০, উচ্চমাধ্যমিক কলেজে শহরে ২৫০ ও মফস্সলে ২২০ এবং ডিগ্রি কলেজে স্নাতকে শহরে ৪৯০ ও মফস্সলে ৪২৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। পাশের হার স্তরভেদে সর্বনিম্ন ৪৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া নতুন এমপিও পেতে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থী সংখ্যায় ৩০, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ ও পাশের হারে ৪০ নম্বর রাখা হয়েছে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print
ফেসবুক