৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সিজারের ৫ মাস পর প্রসূতীর পেট থেকে বের হলো ‘গজ’

জনপত্র ডেস্ক: কুমিল্লার দেবীদ্বারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রায় পাঁচ মাস পর এক নারীর পেট থেকে বের করা হলো এক পোটলা গজ (ব্যান্ডেজ)। এই দীর্ঘ সময়ে গজটি ওই নারীর পেটে থাকায় তাতে পচন ধরে তার জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল।

রোগীর ভাই মো. রুহুল আমিন জানান, গত বছরে ৫ নভেম্বর মুরাদনগর উপজেলার মোগসাইর গ্রামের মো. রাসেল মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (২৫) প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে দেবীদ্বারের আল ইসলাম হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়গনিস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন। সেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. রোজিনা আক্তার তাকে সিজারের পরামর্শ দেন। সে দিনই ডাক্তার রোজিনা আক্তার ও ডা. শামীমা আক্তার লিন্টা তার সিজার করেন। এতে একটি ছেলে সন্তান জন্ম হয় শারমিনের।

অপারেশেনের কিছুদিন পর থেকে শারমিনের পেটে ব্যথা ও ক্ষত থেকে পুঁজ বের হতে থাকে। পরে তাকে দেবীদ্বার ইবনেসিনা হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। রিপোর্টে পেটে পানি জমে থাকার কথা বলা হয়। পরে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওখানেও আল্ট্রা রিপোর্টে পানি দেখা যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পানি কমার ওষুধ দেন। পানি কমে আসলেও ব্যথা কমেনি। সর্বশেষ কুমিল্লা ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আবু দাউদ মো. শরীফুল ইসলাম নিজেই আল্ট্রা করেন এবং পেটে একটা কিছু আছে বলে জানান। তিনিই গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শারমিনকে অপারেশন করেন। অপারেশনের পরই বের করা হয় ‘গজ’ বা ‘ব্যান্ডেজ’-এর কিছু অংশ।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত গাইনি চিকিৎসক ডা. রোজিনার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহম্মেদ কবির জানান, এ বিষয়ে রোগী পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। সাংবাদিকদের কাছ থেকেই এ ঘটনা জানতে পেরেছি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা যেত। আসলে সত্য ঘটনাটি কি?

দেবীদ্বার আল ইসলাম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ মোহাম্মদ হোসেন (এনাম) বলেন, রোগীর পেটে গজ থেকে যাওয়ার বিষয়টি আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি। ঘটনাটি পাঁচ মাস আগের। এরপর রোগীর স্বজনরা আমাদের সাথে আর যোগাযোগ করেনি। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে আমরা অনুতপ্ত।

ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কর্নেল আবু দাউদ মো. শরীফুল ইসলামের সেল ফোনেও বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতালের নাম উল্লেখ করে স্বজনরা যদি লিখিত অভিযোগ করে তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print
ফেসবুক