২৭শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

‘বাবুনগরীর ছেলের বিয়েতে আল্লামা শফিকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা হয়’

জনপত্র ডেস্ক: হেফাজতে ইসলামের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তারা বলছে, হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফিকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে বহু আগেই ষড়যন্ত্র করা হয়।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর ছেলের বিয়েতেই সাবেক আমির আল্লামা শফীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়। ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে মামুনুল হক, জুনায়েদ আল হাবিবসহ কয়েকজন নেতার বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে আল্লামা শফীকে সরিয়ে বাবুনগরীকে আমির করার পরিকল্পনা হয়।

প্রসঙ্গত, হেফাজতে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। সংগঠনটিতে দুটি ধারা স্পষ্ট। একটির নেতৃত্বে বাবুনগরী। অন্যটি আহমদ শফির ছেলে আনাসকে ঘিরে বলয় তৈরি করে রেখেছে। এই অংশটি বাবুনগরীর নেতৃত্ব মানেন না।

২৬ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক সহিংসতার ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের সংশ্লিষ্ট নেতাদের পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার করা হচ্ছে। সম্প্রতি নাশকতার অভিযোগে ঢাকাসহ সারাদেশে বেশ কিছু মামলা রুজু হয়। এর মধ্যে ঢাকায় ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া ২০১৩ সালে হেফাজতের শাপলা চত্বরে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতা নাশকতার ঘটনায় মোট ৫৩টি মামলা দায়ের হয়। মোট ৬৪টি মামলা তদন্তাধীন আছে।

এ পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামের ১৬ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি। তাদের দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এরইমধ্যে রোববার হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ৫ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

গত ১৮ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে হেফাজতের আলোচিক নেতা মামুনুল হককে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। এর পর তাকে কয়েক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সোমবার শাপলা চত্বর ও বাইতুল মোকাররমে সহিংসতার মামলায় তার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print
ফেসবুক