৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

৩৩৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইভ্যালির বিরুদ্ধে

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে ক্রেতার কাছ থেকে আগাম টাকা নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করার অভিযোগ অনেক দিনের। সময়মতো পণ্য না পেয়ে ক্রেতা টাকা ফেরত চাইলেও কোম্পানিটি দিচ্ছে না। অথচ সাইক্লোন, আর্থকোয়েক ইত্যাদি চটকদার নামে আকর্ষণীয় অফার দিয়ে পণ্য বিক্রি করছে ইভ্যালি। এ অবস্থায় গ্রাহক স্বার্থ ও ই-কমার্স খাতের ভাবমূর্তি রক্ষায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইভ্যালির বিষয়ে তদন্ত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনুরোধ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে বেরিয়ে আসে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া ৩৩৮ কোটি টাকা ইভ্যালির আত্মসাৎ কিংবা অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলার আশঙ্কার কথা। এ পরিস্থিতিতে গত ৪ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছেÑ ইভ্যালি গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া ৩৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ কিংবা অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের আলোকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আর্থিক অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে দেখা গেছেÑ গত ১৪ মার্চ শেষে ইভ্যালির মোট দায় (প্রতিষ্ঠানটির কাছে পণ্য সরবরাহকারী ও ক্রেতাদের
পাওনা) ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে ইভ্যালি পণ্য নিয়ে ক্রেতাদের সরবরাহ করে, সেই মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আর ইভ্যালি ক্রেতাদের পণ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আগাম নিয়েছে ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। কিন্তু ওই দিন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কাছে সম্পদ (বিভিন্ন মালপত্র ও অন্যান্য বস্তু) ছিল ৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার। এর মধ্যে বিভিন্ন পণ্য ছিল ৬৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার, যা ক্রেতাদের দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ ইভ্যালি যত ক্রেতার থেকে আগাম টাকা নিয়েছে, তাদের মধ্যে মাত্র ১৬ শতাংশ গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করার বা টাকা ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। বাকি গ্রাহক ও মার্চেন্টের পাওনা পরিশোধ করা ওই কোম্পানির পক্ষে সম্ভব নয়।
তদন্তে আরও দেখা গেছে, বর্তমানে ইভ্যালির গ্রাহক প্রায় ৪৫ লাখ। এই বিপুলসংখ্যক গ্রাহক লোকসানে পড়লে বা প্রতারিত হলে পুরো ই-কমার্স খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমনকি অনেক মার্চেন্ট পথে বসে যেতে পারে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব গ্রাহক টাকা দিয়ে পণ্য বা টাকা কোনোটাই পাননি, তাদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেলের সঙ্গে আমাদের সময়ের পক্ষ থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
সূত্র: আমাদের সময়

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print
ফেসবুক