১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কঠোর লকডাউনে মানুষের ঢল

আজ খুলছে রপ্তানিমুখী সব শিল্প ও কলকারখানা। চলমান কঠোর লকডাউনের (বিধিনিষেধ) মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় সরকারের এ ঘোষণার পর শুরু হয় গ্রাম থেকে ঢাকামুখী মানুষের চলাচল। আর শনিবার ভোর থেকে সারা দেশের সড়ক ও মহাসড়কে নেমেছিল হাজারো মানুষের ঢল। তাদের বেশির ভাগ ছিল গার্মেন্টসহ বিভিন্ন কল-কারখানার শ্রমিক। চাকরি হারাতে পারেন-এমন আশঙ্কায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ সহ্য করেও ভেঙে ভেঙে ঢাকায় আসতে হয়েছে তাদের। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফেরি, রিকশা, লেগুনা, অটোরিকশা, মোটরবাইক ও হেঁটে প্রচণ্ড গরম সহ্য করে অথবা বৃষ্টিতে ভিজে ঢাকায় পৌঁছেন। প্রচণ্ড ভিড় ছিল দৌলতদিয়া ও বাংলাবাজার ফেরিঘাটে। এখানেই শেষ নয়, ঢাকার প্রবেশমুখে পৌঁছার পর ফের একই ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হন। আমিনবাজার, গাবতলী, বাবুবাজার, সায়েদবাদ, আব্দুল্লাহপুর এলাকা দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে ঢাকায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে। সেখান থেকে ভেঙে ভেঙে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নিজ গন্তব্যে পৌঁছান তারা। এ সময় বিভিন্ন যানবাহনে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে যাত্রীদের। এছাড়া হোটেল রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় যাত্রাপথে খাবার ও পানি সংকটে পড়তে হয় তাদের।

পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার রাত সাতটার পর থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল শুরু করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এসব নৌযানকে আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলাচলে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে এক তথ্যবিবরণীতে রাতে জানানো হয়, রপ্তানিমুখী শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের কাজে যোগদানের সুবিধার্থে ১ আগস্ট দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণপরিবহণ চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ ছাড়া শনিবার রংপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি বিআরটিসির বাস দিয়ে তাদের ঢাকায় পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়। দৌলতদিয়ায় যাত্রীদের চাপে নির্ধারিত ৯টার পরিবর্তে ১৬টি ফেরি চালু করা হয়।

এদিকে গাদাগাদি করে যাতায়াত ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনা সংক্রমণ আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। রোগতত্ত্ব রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা ড. মোশতাক হোসেন বলেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান বিধিনিষেধে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প-কলকারখানা খুলে দেওয়ায় গ্রাম থেকে ঢাকামুখী মানুষের ঢল নেমেছে। এটা অনিয়ন্ত্রিত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যাবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানাব চলমান বিধিনিষেধে পরিস্থিতির উন্নতি না হলেও হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোজাহেরুল ইসলাম বলেন, দেশের করোনা পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র হচ্ছে- সংক্রমণ বাড়ছে, মৃত্যু হচ্ছে। চলমান বিধিনিষেধেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। এ অবস্থার মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প-কলকারখানা খুলে দেওয়ায় সংক্রমণ আরও বাড়বে। এতে করোনা পরীক্ষা, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা এবং অক্সিজেন সংকট ধারণ করতে পারে। সরেজমিন দেখা গেছে, শনিবার বেলা ১১টার দিকে গাবতলী প্রবেশমুখে হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করছে। কেউ হেঁটে, কেউ রিকশায় চড়ে। চলাচলের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নানা ধরনের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। শিল্প-কলকারখানা খুলে দেওয়ার খবর প্রচারিত হওয়ায় গার্মেন্টসহ অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ঢাকায় প্রবেশ করতে কোনো বাধা দেয়নি পুলিশ। এছাড়া ঢাকার প্রবেশ ও বহিরাগমনমুখের সড়কগুলোর চেকপোস্টও যথেষ্ট শিথিল দেখা গেছে। রাজধানীর ভেতরের কিছু চেকপোস্ট তুলেও নেওয়া হয়েছে। যেগুলো আছে, সেগুলো প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল চালকদের মামলা দিতে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।

গাবতলী প্রবেশমুখে কথা হয় পোশাককর্মী দম্পতি সাঈদ আহমেদ ও বিলকিছ খাতুন দম্পতির সঙ্গে। সাঈদ আহমেদ মহাখালীর একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। আর বিলকিছ খাতুন গৃহকর্মীর কাজ করেন। তারা থাকেন কড়াইল বস্তিতে। দুটো সন্তান নিয়ে পাবনার বেড়া থেকে ভোরে রওয়ানা দিয়েছিলেন দুজন। ঢাকায় পৌঁছেছেন সকাল ১১টার দিকে। এ সময় সাঈদ আহমেদ জানান, বেড়া থেকে কয়েক দফা অটোরিকশা পরিবর্তন করে সাভারের আমিনবাজার পর্যন্ত আসেন তারা। সেখান থেকে হেঁটে আসেন গাবতলীতে। এখন রিকশা খুঁজছেন মহাখালী যাওয়ার জন্য। গাবতলী থেকে মহাখালী যেতে ৮০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছেন রিকশাচালকরা। তিনি ৩০০ টাকা বললেও কেউ রাজি হচ্ছেন না।

গাবতলী চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট আলমগীর হোসেন জানান, ভোর থেকেই ঢাকামুখী মানুষের ঢল নেমেছে। পোশাক কারখানা খোলার কারণে মানুষ ঢাকায় ঢুকছেন। অনেকে আবার মিথ্যা তথ্য দিয়েও ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি। এখন পর্যন্ত সরকারি আদেশ অমান্য করার অভিযোগে পাঁচজনকে জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া গতকাল রাজধানীর মহাখালী, বনানী, তেজগাঁও, বিজয় সরণি, আসাদ গেট, শ্যামলী ও কল্যাণপুর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, আগের তুলনায় বিধিনিষেধের নবম দিনে গাড়ির চাপ বেড়েছে। কোথাও কোথাও ট্রাফিক সিগন্যালে যানবাহন আটকে থাকতে দেখা গেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, গ্রাম থেকে ঢাকায় আসতে পদে পদে সীমাহীন দুর্ভোগ মাড়িয়েছেন তারা। এছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিকশা, ভ্যান ও বিভিন্ন ছোট যানবাহনে করে ঢাকার দিকে ছুটে চলেছে কর্মজীবী মানুষ। শনিবার ভোর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকার দিকে ছুটে চলা মানুষের দীর্ঘ সারি লক্ষ করা গেছে। গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় ভ্যান, রিকশা ও বিভিন্ন ছোট যানবাহনে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছুটে চলছেন কর্মজীবী মানুষরা। পোশাক কারখানা খোলার খবর পেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কর্মক্ষেত্রে যেতে হচ্ছে তাদের। এতে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তিও।

আলেয়া বেগম কুষ্টিয়া থেকে গাজীপুর যাচ্ছেন। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এ গার্মেন্টকর্মী বলেন, কারখানা খুলে দিয়েছে। আমরা কী করব ভাই। দায়িত্বশীলদের যেতে বলেছে। সরকার কেন এমন ঘোষণা দিল, বুঝতে পারলাম না। কর্মক্ষেত্রে যেভাবেই হোক আমাদের পৌঁছাতে হবে। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন আছে। আমার সঙ্গে ছোট এক বাচ্চাও রয়েছে।

এছাড়া সড়ক-মহাসড়কে ঢাকামুখী কারখানার কর্মীদের সীমাহীন দুর্ভোগ লক্ষ্য করা গেছে। পথে পথে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে গণপরিবহণও বন্ধ রয়েছে। কর্মস্থলে যোগ দিতে যারা রাজধানী ঢাকার দিকে যাত্রা করেছেন, তারা যানবাহনের অভাবে পথে পথে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ছোট গাড়িতে ভেঙে ভেঙে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের। গুনতে হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া।

শনিবার দুপুর ১২টায় মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাট থেকে আসা প্রতিটি ফেরিতেই যাত্রীদের গাদাগাদি করে পারাপার হতে দেখা গেছে। গাড়ির তুলনায় প্রতিটি ফেরিতেই যাত্রীসংখ্যা বেশি। এসব যাত্রী শিমুলিয়া ঘাটে এসে গাড়ির খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। নৌপুলিশ ফাঁড়ির সামনের সড়ক থেকে অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার ও পিকআপ ভ্যানে রাজধানীর উদ্দেশে যাচ্ছেন যাত্রীরা। মুহূর্তের মধ্যেই প্রতিটি গাড়ি যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

এ সময় পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানান, রোববার থেকে গার্মেন্ট, শিল্পপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা। চাকরি বাঁচাতে তারা দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছেন। তবে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় ছোট ছোট গাড়িতে যেতে হচ্ছে তাদের। এতে করে ভোগান্তির সঙ্গে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।

যশোর থেকে সাভারে আব্দুল হাকিম। তিনি জানান, সাভারের পোশাক কারখানায় কাজ করেন তিনি। স্বাভাবিক সময়ে ৫০০ টাকা খরচ করে সাভারে পৌঁছাতে পারতেন। শনিবার শিমুলিয়া ঘাটে আসতেই তার ৮০০ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। ঘাট থেকে ঢাকা পর্যন্ত যেতে গাড়ির সংকট। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাকিটা পথ যেতে হবে। ১৫০ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা চাইছেন চালকরা।

কলকারখানা মালিক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া : এক বিবৃতিতে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান জানান, করোনার ক্রান্তিকালে অর্থনীতির স্বার্থে জীবন ও জীবিকা দুটোই সমন্বয়ের মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা সচলের নির্দেশনা দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তবে কারখানা পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত এবং বিজিএমইএ প্রদত্ত সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য মালিকদের আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে লকডাউন পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত গ্রামে অবস্থানরত কোনো শ্রমিক-কর্মচারী কারখানায় কাজে যোগদান করতে না পারলে তার ওপর কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এ সময়ে কারখানার আশপাশে অবস্থানরত শ্রমিকদের নিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য মালিকদের আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, পোশাক শিল্পে কর্মরত সম্মুখসারির যোদ্ধাদের জন্য করোনা টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিজিএমইএ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছে। রপ্তানি বাণিজ্যে গতি ধরে রাখতে শ্রমিকদের শতভাগ টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। শ্রমিকদের নিরাপত্তায় করোনার টিকার ব্যাপারে সহায়তা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ক্রেতা প্রতিষ্ঠানদের নিকট বিজিএমইএ ইতোমধ্যে আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএকএমইএ) প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, গার্মেন্ট মালিকরা গ্রামে থাকা শ্রমিকদের ঢাকায় আসতে বলেননি। তাদের এও বলা হয়েছে, বিধিনিষেধের মধ্যে শ্রমিকরা আসতে না পারলে কারও চাকরিতে সমস্যা হবে না বা চাকরি যাবে না। বরং ঈদের ছুটি দেওয়ার আগে শ্রমিকদের গ্রামে যেতে বারণ করা হয়েছে। কারণ গ্রামে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তিনি আরও জানান, এখন রপ্তানি আদেশ থাকায় কারখানা চালু করতে মালিকরা আগ্রহী। এ জন্য তাদের কারখানার আশপাশে বসবাসরত শ্রমিকদের নিয়ে কারখানা চালু করতে বলা হয়েছে। কিন্তু দু-একটি কারখানায় সুপারভাইজার পদে কর্মরতরা মালিকদের না জানিয়ে শ্রমিকদের ফোন করে রোববার উপস্থিত থাকতে বলেছে বলে শুনেছি। এটি মোটেও উচিত হয়নি।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন জানান, ঢাকায় যেসব মানুষ প্রবেশ করেছেন তারা সবাই কী শুধুই গার্মেন্ট শ্রমিক, এর মধ্যে কী অন্য শ্রেণি-পেশার মানুষ নেই? যদি থেকে থাকেন তাহলেও এর দায় গার্মেন্ট মালিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে কেন?

তিনি আরও জানান, কোনো কারখানা মালিক বা সুপারভাইজার শ্রমিকদের ঢাকা আসতে তাগাদা দেননি। শুক্রবার যদি মালিক বা সুপারভাইজার শ্রমিকদের ঢাকায় আসতে ফোন নাও দিতেন তারপরও শ্রমিকরা ঢাকায় আসতোই। কারণ প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার কথা শ্রম আইনে বলা আছে। বেতনের জন্য হলেও শ্রমিকরা ঢাকা এসে কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন।

আক্ষেপ করে খোকন আরও জানান, সরকার লকডাউন দিলে কেউ শ্রমিকদের গ্রামে যাওয়া আটকাতে পারবে না। আবার লকডাউন শিথিল করলে ঢাকায় ফেরা ঠেকাতে পারবে না। এ জন্য সব বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ও নামধারী কিছু শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অহেতুক মালিকদের দায়ী করা হচ্ছে।

শ্রমিক সংগঠনের প্রতিবাদ : আকস্মিক ঘোষণায় কারখানা খুলে দিয়ে শ্রমিকদের সীমাহীন দুর্ভোগে ফেলে দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। সংগঠনের সভাপতি মন্টু ঘোষ এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, শুক্রবার গণমাধ্যমে কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত প্রচার করা হয়েছে। এরপর পরই টেলিফোনে শ্রমিকদের রোববার কাজে যোগদানের কঠোর নির্দেশ দিয়ে, অন্যথায় চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়া হয়ে হয়েছে। আজ (শনিবার) বলা হচ্ছে গ্রামে থাকা শ্রমিকদের এখনই কাজে যোগদান বাধ্যতামূলক নয়। মালিকদের এসব কর্মকাণ্ড শ্রমিকদের সঙ্গে তামাশা, মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। তারা আরও জানান, গণপরিবহণ বন্ধ রেখে শ্রমিকদের কাজে ফেরার নির্দেশ দিয়ে তাদের আর্থিক ক্ষতি ও সীমাহীন হয়রানির মধ্যে ফেলা হয়েছে। যার ক্ষতিপূরণ মালিকপক্ষ ও সরকারকে দিতে হবে।

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ১ থেকে ৭ জুলাই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। পরে তা বাড়িয়ে ১৪ জুলাই পর্যন্ত করা হয়। পবিত্র ঈদুল আজহার কারণে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনেই ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোরতম বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সে হিসাবে কঠোরতম বিধিনিষেধের নবম দিন ছিল বৃহস্পতিবার।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

টাঙ্গাইল ও নাগরপুর : শনিবার সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ঢাকামুখী মানুুষের সে াত দেখা গেছে। খোলা ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে গন্তব্যে ছোটেন শত শত মানুষ। গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় ভাড়া নৈরাজ্যসহ পদে পদে ভোগান্তির শিকার হন তারা। পোশাক শ্রমিক শফিকুল ইসলাম বলেন, জামালপুর থেকে ভোরে রওনা দিয়ে কয়েক দফায় ভেঙে নানা পরিবহণ ও হেঁটে এলেঙ্গা পর্যন্ত এসেছি। এখান থেকে অন্য পরিবহণে ঢাকায় যেতে হবে। গাড়ি না পেলে হেঁটেই যেতে হবে। আলেয়া বেগম বলেন, আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। রাস্তায় গাড়ি নেই। অতিরিক্ত ভাড়া। তার ওপর বৃষ্টি-গরম। সিরাজগঞ্জের আসাদুল ইসলাম বলেন, টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা যেতে মাইক্রোবাসে ৭০০ আর অটোরিকশায় ৫০০ টাকা ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। আমার কাছে এত টাকা নেই।

লক্ষ্মীপুর : দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোলা থেকে লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর হাটে ৭ শতাধিক যাত্রী নিয়ে আসে ফেরি কৃষাণী। যাত্রীদের সবাই পোশাক শ্রমিক। এতে একটি গাড়িও ছিল না। সকাল থেকে এ রুটে যাতায়াত করা তিনটি ফেরিতেই যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরো ফেরি কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। প্রায় ৮০ শতাংশ যাত্রীর মুখেই মাস্ক ছিল না। মজু চৌধুরীর হাট ফেরিঘাটের প্রান্তিক সহকারী রেজাউল করিম রাজু বলেন, সব ফেরিতেই যাত্রীদের ভিড়। এজন্য ফেরিতে গাড়ি আনা সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রীদের প্রায় সবাই কারখানার শ্রমিক। শিল্প-কলকারখানা খুলে দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি।

নেত্রকোনা : হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক হেঁটে, রিকশা-ভ্যানে ভেঙে ভেঙে ঢাকায় রওনা হন। অনেকে পিকাআপ ভ্যানে গাদাগাদি করে ছোটেন। নেত্রকোনা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত যেতে জনপ্রতি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। কলমাকান্দার সিধলী গ্রামের পোশাক শ্রমিক আবুল কালাম বলেন, মালিকপক্ষ জানিয়েছে সঠিক সময়ে অফিসে হাজির না হলে চাকরি চলে যাবে। পেটের দায়ে হেঁটেই রওনা হলাম। জানি না কখন পৌঁছাব।’ আরেক শ্রমিক জানান, নেত্রকোনা থেকে ঢাকা বাসে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৩০০ টাকা। কিন্তু এখন লাগছে এর সাত গুণ বেশি। শ্রমিকরা মালিকপক্ষকে যাতায়াতের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

কুড়িগ্রাম ও চিলমারী : চিলমারীর রমনা, জোড়গাছ, ফকিরেরহাট ঘাটে জনস্রোত দেখা যায়। নৌকাসহ নৌ-যানগুলো ছেড়ে যায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে। এমনকি বালু উত্তোলনকারী ড্রেজারেও তোলা হয় যাত্রীদের। এক দিকে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত সঙ্গে ভাড়াও দ্বিগুণ। তবু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে যেতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন কর্মজীবীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানুষের চাপে ঘাটে দুটি নৌকা ভেঙে বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন। চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই, কেউ আদায় করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রংপুর : শনিবার সকাল থেকে রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারীসহ আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে নগরীর মডার্ন মোড়ে সমবেত হন হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক। তারা ঢাকা ফেরার জন্য পরিবহণের ব্যবস্থা করার দাবিতে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের দুপাশে শত শত পণ্যবাহী ট্রাকসহ যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় বিআরটিসি বাসে ঢাকায় যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় আন্দোলনকারী পোশাক শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, জরুরি পরিষেবার আওতায় তাদের মৌখিকভাবে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল : যতদূর চোখ যায় শুধু ট্রাক আর ট্রাক। তাতে লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছেন মানুষ। রয়েছে নারী ও শিশুরাও। পণ্য রেখে মানুষ টানছে এসব ট্রাক। এমন চিত্র ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের। শনিবার ভোর থেকে এভাবেই চাকরি বাঁচাতে রাজধানী পানে ছোটেন হাজার হাজার মানুষ। শুধু নথুল্লাবাদই নয়, নগরীর কাশিপুর বাজার, গড়িয়ারপার, বাবুগঞ্জের নতুনহাট, রহমতপুর, গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডসহ প্রায় সবখানেই দেখা যায় ঢাকামুখী মানুষের ঢল। নথুল্লাবদ বাস টার্মিনালে আসা হারুন নামে এক পোশাক শ্রমিক বলেন, দ্বিগুণ খরচে ভোলা থেকে বরিশাল এসেছি। এখানে এসেও কোনো যানবাহন পাচ্ছি না। পোশাক কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যানবাহন চলাচলের বিষয়টি সুরাহা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

মুন্সীগঞ্জ ও লৌহজং : শিমুলিয়া ঘাটে ফেরিতে গাদাগাদি করে পদ্মা পাড়ি দেন যাত্রীরা। শনিবার সকাল থেকে এ নৌরুটে হাজার হাজার যাত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়ি ফেরি দিয়ে পদ্মা পার হতে দেখা গেছে। বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছে ঢাকামুখী যাত্রীরা সড়কে পুলিশের চেকপোস্ট এড়িয়ে ছোট ছোট যানবাহন ও মোটরসাইকেলে বাড়তি ভাড়ায় ঢাকা যান।

ভোলা : শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ইলিশা ফেরিঘাটে ছিল প্রচণ্ড যাত্রী চাপ। তিনটি ফেরি ৯ ট্রিপে এসব যাত্রীকে পার করেছে। প্রতি ট্রিপে ছিল কমপক্ষে পাঁচ হাজার যাত্রী। এ সময় বেশির ভাগ যাত্রীই স্বাস্থ্যবিধি মানেননি। নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস শ্রমিক আমজাত হোসেন, নজরুল ইসলাম, তোফাজ্জল হোসেন জানান, তারা বাধ্য হয়েই কর্মস্থলে ফিরছেন। আজ চাকরিতে যোগ না দিলে তাদের চাকরি থাকবে না। অনেকে জানান, তারা ফেরিতে মেঘনা নদী পার হয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার মজু চৌধুরী ঘাটে যান। সেখান থেকে ফের ট্রাক বা মাইক্রোবাসে ঢাকা ও চট্টগ্রামের উদ্দেশে পাড়ি জমান। এতে পথে পথে তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

ময়মনসিংহ : ভোর থেকেই নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ মোড় ও ঢাকা বাইপাসে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। বৃষ্টি ও লকডাউন উপেক্ষা করে ট্রাক, পিক-আপ, সিএনজি, মোটরসাইকেল এমনকি হেঁটেও গন্তব্যে ছোটেন অনেকে।

রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ : শনিবার ভোর থেকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। কুষ্টিয়া থেকে আসা যাত্রী চন্দন শেখ বলেন, ২০০ টাকার ভাড়া ৮০০ টাকা দিয়ে কুষ্টিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে এসেছি। এখানে এসে দেখি কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। তার পরও যেতে হবে। অ্যাম্বুলেন্স চালক আলিম মাতুব্বর বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যেন জনস্রোত। প্রতিটি পন্টুনে যাত্রী। তাদের জন্য ফেরিতে ওঠা যাচ্ছে না। ঝিনাইদহ থেকে আসা আমির হোসেন বলেন, পথে পথে ভোগান্তি নিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এসেছি। সকাল ৬টা থেকে এখানে বসে আছি। ভিড়ের কারণে এখনো ফেরিতে উঠতে পারিনি। পাংশা থেকে পোশাক শ্রমিক সোহাগ মোল্লা বলেন, চাকরিতে যোগ দিতে ঢাকায় যেতে হবে। এখানে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়, তাই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন বলেন, যানবাহন পারাপারের জন্য ৯টি ফেরি চলছিল। পরে যাত্রী বাড়ায় উপরের নির্দেশে বেলা ১২টার পর ১৬টি ফেরি চালু করা হয়েছে।

গাজীপুর : শুক্রবার রাত থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় একটি ট্রাকে ছিলেন প্রায় ২৫-২৬ জন যাত্রী। এদের মধ্যে কারখানা শ্রমিক রবিউল ইসলাম বলেন, যানবাহন নেই, এর মধ্যে কারখানা খুলে দিয়েছে, যার কারণে বাধ্য হয়েই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ট্রাকে উঠেছি। সিরাজগঞ্জ থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ভাড়া নিয়েছে ৫০০ টাকা। ট্রাকচালক আব্দুল আলীম বলেন, তিনি এক সপ্তাহ ধরে রাতে সিরাজগঞ্জ থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে আসছেন।

চট্টগ্রাম : কাজে যোগ দিতে কিছু পথ গাড়িতে আবার কখনো হেঁটে শনিবার নগরীতে ফিরেছেন শ্রমিকরা। বিকালে নগরীর প্রবেশদ্বার সিটি গেট, মইজ্যারটেক, অক্সিজেন মোড়, রাস্তার মাথা ও কালুরঘাট দিয়ে শ্রমজীবী লোকজন নগরীতে প্রবেশ করেন। নগরীর ইপিজেড কারখানায় মিনহাজুর রহমান জানান, তিনি ফেনী থেকে এসেছেন। কিছু পথ রিকশায়, কিছুটা মাইক্রোতে। এক হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার।

শিবচর (মাদারীপুর) : বাংলাবাজার ঘাটে যাত্রী চাপে ফেরিতে জরুরি গাড়ি উঠাতে হিমশিম খেতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফেরির সংখ্যা ছয় থেকে বাড়িয়ে ১০ করা হয়েছে। যাত্রীরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়ায় বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, থ্রি-হুইলারসহ হালকা যানবাহনে চড়ে ঘাটে আসেন।

জামালপুর ও দেওয়ানগঞ্জ : সকাল থেকে জামালপুর-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে মানুষের ঢল নামে। যাত্রীরা মালবাহী ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে গন্তব্যে ছোটেন। মেলান্দহ থেকে আসা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার শাখার এসিসট্যান্ট মাজহারুল ইসলাম বলেন, রোববার (আজ) কর্মস্থলে যোগ না দিলে চাকরির সমস্যা হবে। তাই ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় যেতে হচ্ছে।

নাটোর : ট্রাকে গাদাগাদি করে ঢাকা রওনা দেন অনেকে। কেউ কেউ ট্রাকও না পেয়ে বসে থাকেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। নাটোর বাইপাস মোড়, বনপাড়া বাইপাস ও বড়াইগ্রাম থানা মোড়ে হাজার হাজার মানুষকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এভাবে অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।

এছাড়া পটুয়াখালীর দুমকি, বরিশালের বাবুগঞ্জ, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, কুমিল্লার চান্দিনা, মাদারীপুরের টেকেরহাট, গাজীপুরের কোনাবাড়ী, কালিয়কৈর ও কাশিমপুর, ময়মনসিংহের গৌরীপুর, ভালুকা, ফুলপুর ও মুক্তাগাছা, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর, কুষ্টিয়ার কুমারখালী, নাটোরের বড়াইগ্রাম, নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print
ফেসবুক