১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ভারতের ইলিশ চলে আসছে পদ্মায়, পশ্চিমবঙ্গে হাহাকার

এমনিতেই বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি না হওয়ার কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ইলিশের জন্যে হাহাকার চলছে। যেটুকু ইলিশ পাওয়া তাও দিঘা সমুদ্রের। কিন্তু স্বাদে বা মানে পদ্মার ইলিশের ধারে কাছেও নেই।

এরই মধ্যে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে আরেক আশঙ্কার কথা। তারা জানাচ্ছে, ভারতে গঙ্গা নদীর মোহনায় ইলিশের দেখা মিলছে না। এ কারণে মৎস্যজীবীরা পড়েছেন বিপাকে।

গবেষকরা জানাচ্ছে, ইলিশ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে গঙ্গা থেকে। তার কারণ মাত্রাতিরিক্ত দূষণ। আর গঙ্গা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া ইলিশ এখন ঝাঁকে ঝাঁকে বাংলাদেশের পদ্মা পাড়ে আসছে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস জানায়, সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ট অব ড্যাম রিভার অ্যান্ড পিপলস এই বিষয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

আর এতে দূষণকেই দায়ী করা হচ্ছে গঙ্গায় ইলিশের দেখা না পাওয়ার কারণ হিসেবে। তারা আরও আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেছে এমন চলতে থাকলে ইলিশ আর গঙ্গা পাওয়া যাবে না।

বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, পডিম সংরক্ষিত রাখার জন্য ইলিশের মিঠা পানির প্রয়োজন হয়। সেজন্যই তারা গঙ্গায় প্রবেশ করে।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গার পারে কলকারখানা গড়ে ওঠার ফলে গঙ্গা নদীর পানিতে মারাত্মক দূষণ ঘটছে। আর এই দূষণের ফলে গঙ্গার পানিতে লবণের মাত্রা অত্যাধিক বেড়ে গেছে। ফলে ইলিশ এখন গঙ্গার মোহনা থেকে মুখ ফিরিয়ে বাংলাদেশের পদ্মা পাড়ে চলে যাচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন নদীতে ইলিশের ঘনত্ব বেড়েছে। ফলে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। মৎস্য মন্ত্রণালয় জানায়,যখন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকে সেসময় জেলেদের মাসে ৪০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেয় মৎস্য অধিদফতর।

মার্চ মাসে নদীতে জাটকার প্রাচুর্য সবচেয়ে বেশি থাকে বলে এ মাসে পালন করা হয় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ।এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানিয়েছেন, সামনের দিনগুলোয় ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, কারণ ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নেওয়া কার্যক্রমের ফসল হিসেবেই এই সফলতা অর্জন সম্ভব হচ্ছে। মা ও জাটকা ইলিশ ধরা বন্ধ করায় আমাদের এখানে এই সাফল্য এসেছে।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ইলিশের বড় হওয়ার জন্য অভয়াশ্রমগুলো বাড়ানো এবং সুরক্ষা দেওয়াও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। আগামিতে দেশের জিডপিতেও ইলিশেল অবদান বাড়বে। বর্তমানে জিডিপিতে ইলিশের অবদান এক শতাংশ।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print
ফেসবুক