১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ফের সেঞ্চুরির পথে পেঁয়াজ

দেশে নানা অজুহাতে ফের অস্থির পেঁয়াজের বাজার। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও গত শনিবার সকাল থেকেই বাড়ানো হচ্ছে পণ্যটির দাম।

প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ শুক্রবার ৪৫ টাকা বিক্রি হয়েছে, বুধবার তা বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৮০ টাকা। অর্থাৎ চার দিনের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৩৫ টাকা পর্যন্ত। দফায় দফায় বৃদ্ধির কারণে গত বছরের মতো আবারও প্রতি কেজির দাম অচিরেই একশ টাকা অতিক্রম করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ী ও বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি কমিয়েছে। বন্যার কারণে দেশটিতে কিছুটা বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম। আবার বেশি দামের আশায় আমদানিকারকরা আগ থেকেই পেঁয়াজ পর্যাপ্ত মজুত রেখেছে। মূলত এসব কারণে দেশের বাজারে হু-হু করে পণ্যটির দাম বাড়ছে।

রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকা। শনিবার তা বেড়ে ৫৫-৬০ টাকা হয়। সোমবার বিক্রি হয় ৬০-৬৫ টাকা। মঙ্গলবার কেজিপ্রতি ৭০ টাকা বিক্রি হলেও সর্বশেষ বুধবার বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৮০ টাকা।

বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে প্রতিদিন বাজার তদারকি করা হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির কারসাজি ধরতে মোকাম থেকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রির ও ক্রয়ের রসিদ দেখা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম সামনে আসলেই শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। আশা করি কয়েকদিনের মধ্যে দাম ভোক্তার ক্রয় ক্ষমতায় চলে আসবে।

কাওরান বাজারের খুচরা বিক্রেতা সোনাই আলী যুগান্তরকে বলেন, পাইকারি বাজারে দফায় দফায় পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে। যে কারণে বাড়তি দাম দিয়ে এনে বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে ভোক্তার পণ্যটি কিনতে গত বছরের মতো বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। কিন্তু তাদের যা রাগ আমাদের মতো খুচরা বিক্রেতাদের ওপর ঝাড়ছে। আমাদের ক দোষ পাইকার ও আমদানিকারকরা যদি দাম বৃদ্ধি করে সেক্ষেত্রে আমাদেরও বাড়তি দামে কিনতে হয়। বিক্রিও করতে হয় বেশি দরে।

রাজধানীর পাইকারি আড়ত শ্যামবাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সংকর চন্দ্র ঘোষ যুগান্তরকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও বুধবার বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকা। কারণ মোকামে আমদানিকারকরা সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু মূল বিষয় হচ্ছে, পূজার কারণে ভারত থেকে আমদানি কমেছে। আবার আমদানি করলেও আমদানিকারকরা আগে থেকেই পেঁয়াজ পর্যাপ্ত মজুত রেখেছে। কিন্তু এখন বাজারে কম ছাড়ছে। বিক্রিও করছে বেশি দরে। যে কারণে দেশের বাজারে দাম বেড়েছে।

চট্টগ্রামের পেঁয়াজ আমদানিকারক মো. আলী যুগান্তরকে বলেন, ভারতে বন্যাতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি পূজার কারণে আমদানি কম হচ্ছে। তাই দাম বেড়েছে। তবে এই দাম বাড়ার চিত্র ক্ষণস্থায়ী। আমদানি বাড়লেই দাম আবার আগের মতো হয়ে যাবে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print
ফেসবুক